

Published on: January 16, 2026Written by: উস্তাজ ইবনে ইসহাক
অনেক আছেন যাদের বিয়ে হয় না, বিয়ের জন্য অ'স্থির হয়ে আছেন। আবার অনেকের বিয়ে হলেও সংসার ভালো যাচ্ছে না। তারা ডি'ভোর্স নিয়ে ভাবছেন। এই-যে কেউ জীবনের এই অধ্যায়ে ঢুকতে ব্যাপক আগ্রহী, অন্যজনের পুরোপুরি অনাগ্রহ; এর কারণ কী আসলে? এই দুইয়ের কোনোটা কী সমাধান হতে পারে কখনো? চলুন অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকেই উদাহরণসহ বুঝি।
১. মিস আঞ্জুম, বিয়ে হচ্ছিল না। কোন রোগীর কাছে জানার পর রুকইয়াহ করেন। সপ্তাহখানেক গেলে ম্যানেজমেন্ট থেকে শুনলাম উনার বিয়ে হয়েছে। এই লেখা চলাকালীন একজন পেশেন্ট আসলেন, ৫ বছর আগে ব'দনজর গোসল তিন দিন করতেই উনার বিয়ে হয়ে যায় সাথে সাথে; তার আগের পাঁচ বছর কেবল পিছাচ্ছিল বিয়ে। এমনো ঘটনাও দেখেছি, রুক'ইয়াহ করে যাওয়ার পরদিনই বিয়ে হয়ে গেছে, যেখানে উনার বিয়ে আটকে আছে ৪ বছর ধরে।
এই তিনটা ঘটনা প্রায় একই ক্যাটাগরির। আবার তিনটা পেশেন্টের সাথে অদ্ভূতভাবে একই ধরণের ঘটনা ঘটে গেছে। প্রথমজন এক মাস সংসার করে ডি'ভোর্স নিয়েছেন। তৃতীয় জন্য ৭ দিনের ভিতর ডি'ভোর্স দিয়েছেন। দ্বিতীয় জন ৪ বছর টেনেটুনে টিকিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেন নাই সংসার রক্ষা করতে।
আবার সবার ব্যাপারে কমন কী জানেন? বিয়ের পরপরই রুক'ইয়াহ ছেড়ে দিয়েছেন। পাক না'পাকের কোন বালাই নাই। ঝ'গড়াও করেছেন গলার জোর দিয়ে। যেভাবে ইচ্ছা হাসবেন্ডের মন মতো চলেছেন; এগুলো প্রথম ও দ্বিতীয় জনের একদম মৌখিক স্বীকারোক্তি।
এই বিষয় কেবল মেয়েদের সাথে হয় বা হবে এরকম না। গত মাসের ঘটনা এক ছেলের বিয়ে হতো না। মা অনেক আমল করলেন এবং বুঝালেন। ছেলে হঠাৎ রাজি হলে ওইসময়-ই মেয়ে দেখিয়ে আক্বদ করে ফেলল। বিয়ের দুইদিন পর ঠুনকো বিষয়ে একটু কথা এদিকসেদিক হতেই এখন ডি'ভোর্স নিয়ে আলাপ চলছে। ছেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: সে এই মেয়ে ছেড়ে দিবে।
২. মিস রাহনুমা, ৩০ বছর বয়সে চার চারটি ডি'ভোর্স হয়েছে উনার জীবনে। রুক'ইয়াহ করলে জি'ন এসে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে, সে-ই সব নষ্ট করেছে এখনোব্দি। কারো সাথেই সংসার করতে দিবে না। অথচ এর আগ পর্যন্ত ছেলেপক্ষকে জু'লুমের সাথে দায়ী করছিল সবাই।
এদিকে মিসেস হাসান, কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না স্বামীকে। তার ডি'ভোর্স লাগবেই লাগবে। সে নিজ থেকেই ডি'ভোর্স! ডি'ভোর্স!! করত একটা সময়। কিন্তু যখন বাস্তবে ডি'ভোর্স হয়ে গেল তখন মাথায় হাত। কবি'রাজ-হুজুর দৌড়িয়ে আসছে আমাদের কাছে। এখন রুক'ইয়াহ করে উনার জিন তাড়ানো গেলেও সম্পর্ক জোড়ানো তো সম্ভব না, জা'দু হোক বা উনার ব্যবহারে স্বামী তো নিজ হাতে ডি'ভোর্স দিয়েছে। সবিশেষ দ্বিতীয় দফা আগের স্বামীকে বিয়ের শর'য়ী সমাধান শুনে উনার আর ভালো লাগল না।
মিস সায়মার জীবন জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো। স্বামীকে মার'ধর করেছে, স্বামীও পালটা নির্যা'তন করত তাকে। তিনি নিজেই ডিভো'র্স দিয়েছে। এখন নিজের ভুল বুঝে যেতে চাচ্ছেন, স্বামী নিচ্ছেন না কোনোভাবে। এদিকে ভাইয়ের বাসায় থাকাটা আরো বেশি কষ্টের। কারো সাথেই ভালো না অবস্থা। উনার জীবনে সব ক্ষ'তি পরিবার করেছে বলে তার ধারণা, এখান থেকে তৈরি হয়েছে তীব্র তি'ক্ততা।
তিনজনের ঘটনা ছদ্মনামে হলেও এগুলো বাস্তবতা। আমাদের সমাজে এমন অনেক অনেক ঘটনা লুকিয়ে আছে। untold story লিখতে লাগলে গা শিউরে উঠবে সবার। কিন্তু আদৌও কি এসবের সমাধান হবে?
দ্বিতীয় পর্বের প্রথমজনের ঘটনায় দো'ষারোপ পালটা দো'ষারোপ চলছে। জিন সামনে এসে স্বীকার না করলে আজীবন একজন আরেকজনকে দো'ষারোপ করে এভাবেই সংসারে চলত। দ্বিতীয় ঘটনাও সমাজে অহরহ, পর'কিয়া পর্যন্ত করতে দেখা যায় এমন স্বামীদের। তৃতীয় সমস্যায় স্বামী মাজ'লুম, ওয়াইফ যখন বুঝেছে তখন টাইম ওভার। তারপরও রোগ বুঝে চিকিৎসা করা উচিত সবার। কারণে আপনার একবার ভুলের জন্য একটা সংসার ভাঙলেন, আরেকটার জন্যও অপেক্ষা করবেন?
সমাধান:
তাই সবাইকে বলি, দ্রুত বিয়ে ও হুটহাট ডি'ভোর্স কখনো সমাধান না। আপনার এই সমস্যাটা আধ্যা'ত্মিক বা জি'ন-জা'দু ও ব'দন'জরের জন্য হচ্ছে কিনা তা একবার হলেও নিশ্চিত হোন রুক'ইয়াহ ডায়গনোসিস করার মাধ্যমে। সমস্যা থাকলে সমাধান হলো, নিয়মিত রুক'ইয়াহ ট্রিটমেন্ট করে শেষ করা। অন্যথায় একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি নিজের জীবনে তৈরি করা। তারপর বিয়ে করে নিয়মিত আপডেট থাকা, কোন লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাৎক্ষণিক সেটা সমাধান করা।
জীবনে তাড়াহুড়ো কোন কাজে করবেন না। স্মরণ রাখবেন, তাড়াহুড়ো আসে শয়'তানের পক্ষ হতে। এর থেকে তৈরি হয় অস্থি'রতা ও মানসিক অ'শান্তি ভোগা। তাই চিকিৎসা হোক বা সমস্যা—কোনোটা নিয়ে অস্থির হওয়া যাবে না। হুটহাট সিদ্ধান্ত নেয়াও যাবে না।