

Published on: January 16, 2026Written by: উস্তাজ ইবনে ইসহাক
সেদিন সর্বশেষ রুকইয়ার প্রেস্কিপশন দিচ্ছিলাম। ম্যানেজমেন্ট থেকে জানানো হলো, লাস্টে ইমার্জেন্সি একজন রোগী সিরিয়াল নিয়েছেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। স্বামী-স্ত্রী দু'জন এলেন। দেখে বুঝা যাচ্ছিল বাস্তবেই সিরিয়াস ক্যাস।
মূল ঘটনা:
ঘটনা মোটামুটি এমন, “তারা দু'জন আগামীকাল ডিভোর্স নিবে। আজ এসেছে লাস্ট ট্রাই করতে। এটা বোনের দ্বিতীয় সংসার। প্রথম সংসার থেকে অভিযোগ করা হয়, তিনি হঠাৎ সেন্সলেস হয়ে পাগলের মতো আচরণ করতেন এবং একসময় হত্যা করতে যান নিজ স্বামীকে। দ্বিতীয় বিয়ের পর এখন তার যতটা না সমস্যা, হাসবেন্ডের আরো বেশি। বিজনেস ছিলো কয়েকটা, সব নষ্ট হয়ে যায়। লাস্ট যা বিজনেস করেছে সব অসফল রয়ে গেছে। কিছুটা ‘লক্ষ্মী ও কুফা বউ’-এর ধারণা থেকে অভিযোগ করে যাচ্ছে স্ত্রীর নামে। মোটকথা অভিযোগের পর অভিযোগ এসেই চলছে। মনে হচ্ছিল, কোর্টে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিচ্ছেদের বিচারকার্যে বসেছি আমরা।”
হাসবেন্ড বলছে, আমার বউয়ের ধারণা এসব ঝগড়া নাকি জিন করাচ্ছে। তাই এসেছি রুকইয়ার জন্য। কাল তো ডিভোর্স হবে, আজ না হয় শেষবারের মতো আবদাটা রাখি!” এটা শুনে হেসে বললাম, ঠিক আছে বসুন। রুকইয়াহ শুরু করছি। দু'জনেই নিয়ত ঠিক করে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকুন।
রুকইয়াহর ইফেক্ট:
রুকইয়াহ করতে না করতেই ইফেক্ট শুরু হলো। হাত নাচাচ্ছিল, পা নড়ছিল এবং ধীরে ধীরে পুরো শরীর ওই বোনের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছিল। মজার ব্যাপার হলো, ওই ভাই ঘুমে ঢলে পড়ছিল। কোনোভাবেই বসে থাকতে পারছিল না। রুকইয়াহ শেষে যখন বোন স্বাভাবিক হলো, ওই ভাইয়ের মন ৩৬০ ডিগ্রি না হলেও অনেকটা পরিবর্তন হয়ে এসেছে। এখন সে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সিরিয়াস। নিজের সমস্যা নিয়েও চিন্তিত।
সবিশেষ কিছু কথা:
অজু করিয়ে দু'জনকে বসালাম। বললাম, দেখলেন-ই তো যা দেখার। নিজের চোখকে তো আর অবিশ্বাস করাতে পারবেন না। এই বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের অনেক ভাইবোনের সংসার আজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ না জেনে বিচ্ছেদের দিকে আগাচ্ছে। আবার কেউ বুঝলেও সাপোর্ট না থাকার কারণে কষ্ট চেপে স্ট্রাগল করে যাচ্ছে। আপনাদের এখন প্রয়োজন দু'জন দু'জনের প্রতি সহনশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা। এর ফলে দেখবেন, ভালোবাসা ঠিক প্রথমের মতোই আবার ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
১০ দিন পর, ফলাফল:
সেদিন প্রেস্কিপশন নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। এই ক’দিন রুকইয়াহ করে এসে জানান, এখন আলহামদুলিল্লাহ ৬০% সুস্থ। হাসবেন্ডকে উনার কাছে নিয়ে যাবেন ৩ দিন পর। তাই আজ আসলেন রুকইয়াহ করিয়ে দীর্ঘদিনের প্রেস্কিপশন নিবেন বলে।
১০ দিন পর উভয়ের মুখের হাসি দেখে আমিও ভুলে গিয়েছি পূর্বের অবস্থা। সেদিনকার থমথমে পরিস্থিতি আর আজকের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা। এ-র নামই জীবন।