

সেদিন সর্বশেষ প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলাম। ম্যানেজমেন্ট থেকে জানানো হলো—ডিভোর্সের প্রসেসে আছেন এমন একজন লাস্টে ইমার্জেন্সি সিরিয়াল নিয়েছেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। স্বামী-স্ত্রী দু’জন এলেন। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, বাস্তবিক অর্থে সিরিয়াস কেস।
মূল ঘটনা:
রোগী যা বলল, মোটামুটি এমন—
“তারা দু’জন আগামীকাল ডিভোর্স নেবে। আজ এসেছে লাস্ট ট্রাই করতে। এটা বোনের দ্বিতীয় সংসার। প্রথম সংসার থেকে অভিযোগ করা হয়—তিনি হঠাৎ সেন্সলেস হয়ে পাগলের মতো আচরণ করতেন এবং একসময় নিজ স্বামীকে হত্যা করতে যান। দ্বিতীয় বিয়ের পর এখন তার যতটা না সমস্যা, হাসবেন্ডের আরও বেশি। কয়েকটা বিজনেস ছিল, সব নষ্ট হয়ে যায়। লাস্ট যে বিজনেস করেছে তাও অসফল। হাসবেন্ড কিছুটা ‘লক্ষ্মী ও কুফা বউ’-এর ধারণা থেকে স্ত্রীর নামে অভিযোগ করে। মোটকথা—অভিযোগের পর অভিযোগ আসতেই থাকে উভয় পক্ষ থেকে। মনে হচ্ছিল, কোর্টে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিচ্ছেদের বিচারকার্যে বসেছি আমরা।”
হাসবেন্ড বলছে—
“আমার বউয়ের ধারণা এসব ঝগড়া নাকি জিন করাচ্ছে। তাই এসেছি রুকইয়ার জন্য। কাল তো ডিভোর্স হবে, আজ নাহয় শেষবারের মতো আবদারটা রাখি!”
এটা শুনে হেসে বললাম—ঠিক আছে, বসুন। রুকইয়াহ শুরু করছি। দু’জনেই নিয়ত ঠিক করে মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকুন।
রুকইয়ার ইফেক্ট:
রুকইয়াহ করতে না করতেই ইফেক্ট শুরু হলো। হাত নাচাচ্ছিল, পা নড়ছিল, ধীরে ধীরে পুরো শরীর ওই বোনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। মজার ব্যাপার হলো—ওই ভাই ঘুমে ঢলে পড়ছিল। কোনোভাবেই বসে থাকতে পারছিল না। রুকইয়াহ শেষে বোন স্বাভাবিক হলে স্বামীর মন ৩৬০ ডিগ্রি না হলেও অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে আসে। এখন সে স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সিরিয়াস। নিজের সমস্যা নিয়েও চিন্তিত।
সবিশেষ কিছু কথা:
অজু করিয়ে দু’জনকে বসালাম। বললাম—দেখলেনই তো যা দেখার। নিজের চোখকে তো আর অবিশ্বাস করাতে পারবেন না। এই বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের অনেক ভাইবোনের সংসার আজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ না জেনে বিচ্ছেদের দিকে এগোচ্ছে। আবার কেউ বুঝলেও সাপোর্ট না থাকার কারণে কষ্ট চেপে স্ট্রাগল করে যাচ্ছে। আপনাদের এখন প্রয়োজন—দু’জনের প্রতি দু’জনের সহনশীলতা ও সহযোগিতার মানসিকতা। এর ফলে দেখবেন, ভালোবাসা ঠিক প্রথমের মতোই আবার ফিরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
১০ দিন পর, ফলাফল:
সেদিন প্রেসক্রিপশন নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। এই ক’দিন রুকইয়া করে এসে জানান—এখন আলহামদুলিল্লাহ ৬০% সুস্থ। ভিসা প্রসেসিং কমপ্লিট হলে হাসবেন্ডকে উনার কাছে নিয়ে যাবেন ৩ দিন পর। তাই আজ আসলেন রুকইয়াহ করিয়ে দীর্ঘদিনের প্রেসক্রিপশন নেবেন বলে।
১০ দিন পর উভয়ের মুখের হাসি দেখে আমিও ভুলে গিয়েছি পূর্বের অবস্থা। সেদিনকার থমথমে পরিস্থিতি আর আজকের হাস্যোজ্জ্বল চেহারা—এ-ই তো জীবন, তাই না?