

ট্রা°ন্স ও রুকইয়াহ'র সম্পর্ক
ট্রা°ন্স বা বি°কৃত জীবনাচরণে বিশ্বাসী পশ্চিমে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শয়°তানী ধর্মে বিশ্বাস রাখা ওই দেশের বাস্তবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল নই। কিন্তু রুকইয়াহ ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে গত ছয় বছরে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইউএস বা ইউকের নাগরীক অনেকের সন্তানের রুকইয়াহ করেছি। এরমধ্যে দু-একটা ঘটনা উল্লেখ করলে হয়তো আপনারা ধারণা পাবেন।
—জেসিকা(ছদ্মনাম) জন্মগ্রহণ করে নিউইয়র্ক সিটির সম্ভ্রান্ত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পরিবারে। ছোট বেলা থেকে মা তার দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা দিয়ে আসছিল।।কোরআন ও দীন শিক্ষা দিয়েছিল। ধীরে ধীরে তাকে স্কুলে অভ্যস্ত করা হয়।
ক্লাস ফাইভে এসে দেখতে পায় পরিবর্তন। মেয়ে কোরআন শুনতে চায় না। ১১ বছরের বাচ্চা এমন এমন জিনিস চেয়ে বসছে, শেয়ার করতেও লজ্জা পায়। বাবা মত স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ফ্রিডম লাইফের জন্য বাচ্চাকে সর্বোচ্চ ছাড় দিচ্ছে। সন্তান বড়দিন, থার্টি-ফাস্ট, হ্যালোউইন সব পালন করছে— কোনকিছু বলার অধিকার বা করার নাই মায়ের। এমন অবস্থায় দেশে নিয়ে আসে।
১১ বছরের বাচ্চাকে রুকইয়াহ করিয়ে দেখবে কোন আসর আছে কি-না। আমাকে একজন আলিমের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পায়। প্রথম দেখাতেই আমি থমকে যাই। তার পোশাকাশাক পরিবর্তন করে নিয়ে আসতে বলি। এই বাচ্চা টম বয় টাইপ আচরণ করে। নিজেকে মনে মনে ছেলে ধারণা করে। জিহবায় ফুটো করে রিং বসাতে দেয়নি দেখে সপ্তাহখানেক আগে বাসায় বড় সবাইকে ধরে মারধর করে। কেউ জানেনা তার শরীরে এতো শক্তি আসে কোথা থেকে!
আমি তার সাথে বসলাম। বাংলা ইংরেজি উভয়টার মিশেলে কথা বলে, আমিও চেষ্টা করলাম তার মত করে কথা বলে বুঝতে সমস্যাটা কোথায়। তার কথার মূল ক্ষেত্র, "I'm adult, so i can do whatever i want" ধর্মীয় মূল্যবোধ বুঝালাম, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও দেখালাম। সে বুঝতে নারাজ। তখন বললাম, ঠিক আছে। আমি কোরআন তিলাওয়াত করি পরিবারের সন্দেহ দূর করার জন্য। আগে থেকেই সফটভাবে কথা বলায় রাজি হলো।
কোরআন তিলাওয়াত শুরু করতেই অজোস্রে অশ্রু বইছিল জেসিকার। ধীরে ধীরে তার ভিতর থেকে হিংস্রতা প্রকাশ পাবে অবস্থা তৈরি হচ্ছিল। শুনবে না। উঠে যেতে চাচ্ছে। আগে থেকে এমন ধারণা দিয়ে দিলেও সেখানে এসে হঠাৎ বাঁধ সাধে পরিবার। বাচ্চা গরম হয়ে গেলে সামলাতে পারব না। আপনি আপাতত বন্ধ করে দিন। তার বাবা এগুলো শুনলে রাগারাগি করবে..... কত বাহানা। আমার খুব দায়িত্ব হয়নি উম্মাহ'র শরীর থেকে যেচে গিয়ে জিন সরানোর, তাও পরিবারের অনুমতি ছাড়া। তাই সাধারণ কিছু আমল দিয়ে চলে এসেছিলাম। এখন জানিনা জেসিকার কী অবস্থা।
—এমন অনেক ছেলে ও মেয়ে বাংলাদেশেই আমি পেয়েছি যারা স্ব-লিঙ্গ বা জেন্ডারের প্রতি আসক্ত। নিজের অজানতে মেয়ে ছেলেকে দেখতে পারে না৷ ছেলে মেয়েকে দেখতে পারে না৷ শুনতেই কেমন সুন্দর লাগছে তাইনা? এটাই তো ভালো! না। এভাবে বিয়েতে অনাগ্রহী করে বিকৃত জীবনাচরণে বিশ্বাসী করে তুলে জিন শয়তান। সমকা°মিতায় বিশ্বাসী না হয়েও এমন আচরণ নিজের ভিতর অনুভব করেন আমাদের অনেক পেশেন্ট। অনেক ভাইকে বলতে গিয়ে কান্না করতেও দেখেছি নিজের এসব লজ্জাজনক অবস্থার জন্য। অনেক বোন কান্না জড়িত চিঠি দিয়েছিলেন আমাদের, সরাসরি বলতেও কতটা লজ্জার বিষয় এটি! সে পরিসংখ্যান আগামীতে আমরা তুলে আনার চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ।
—বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আরেকটা ঘটনা মনে পরে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যের এই ধরণের সমস্যা হচ্ছিল। তারা সাধারণ কিছু আমল করেই ফিরে এসেছেন। লন্ডনে থাকা সিলেটি ওই পরিবার দুইমাসেই দীনী পরিবেশ গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।
সবিশেষ—
সবার সমস্যা ও সমাধান একরকম হয় না। এইসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আমাদের সুশীল ও তথাকথিত সভ্য মানসিকতার। ফ্রিডম লাইফের নামে বিকৃত জীবনাচরণে বিশ্বাসীদের এই দৌরাত্ম্য আমাদের দেশেও শুরু হলো।।মানুষ ও জিন উভয় জাতির মাঝ হতে শয়তান পূজারীরা প্ল্যান A,B,C,D সব শুরু করে দিয়েছে। জানিনা এর শেষ কোথায় গিয়ে থামবে। এখনি সতর্ক না হলে বিকৃত সমাজ ব্যবস্থা খুব বেশি দূরে নয়। ইতিপূর্বেই ১৮+ ভিডিও কন্টেন্ট, হারাম রিলেশন, ফ্রি মিক্সিং ও উলঙ্গ সমাজ ব্যবস্থা নরমালাইজেশন হয়ে গিয়েছে। আপনি না জাগলে, সবাই না দাঁড়ালে; ধীরে ধীরে বাকিগুলোও হয়ে যাবে হয়তো!?
—ইবনে ইসহাক