
অলিভ অয়েল বা যায়তুনের তেল ইসলামি চিকিৎসা ও রুকইয়াহর ক্ষেত্রে একটি পরিচিত ও বরকতময় উপাদান। আল্লাহ তাআলা কুরআনে যায়তুন গাছকে বিশেষ মর্যাদায় উল্লেখ করেছেন, যা এর ফজিলত ও উপকারিতার দিকে ইঙ্গিত করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“একটি বরকতময় যায়তুন গাছ থেকে (জ্বালানি নেওয়া হয়), যা না পূর্বদেশীয়, না পশ্চিমদেশীয়।”
— (সূরা নূর: ৩৫)
এই আয়াতে যায়তুনকে বরকতময় বলা হয়েছে—অর্থাৎ এতে কল্যাণ, উপকার ও উপযোগিতা নিহিত রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমরা যায়তুনের তেল খাও এবং তা দিয়ে শরীরে মালিশ করো। কেননা এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে প্রাপ্ত।”
— (তিরমিজি)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যায়তুনের তেল খাওয়া ও বাহ্যিকভাবে ব্যবহার—দুইটাই সুন্নাহসম্মত ও উপকারী।
রুকইয়াহর ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল সাধারণত সমস্যার স্থানে মালিশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় জাদু, জিনের প্রভাব, বদনজর বা দীর্ঘস্থায়ী অজানা সমস্যায় শরীরের নির্দিষ্ট অংশে—
ব্যথা
ভারী ভাব
জ্বালাপোড়া
অস্বস্তি বা অচেনা চাপ
অনুভূত হয়। এসব ক্ষেত্রে রুকইয়াহ পড়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হয়।
অলিভ অয়েলের উপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে
আল্লাহর কাছে শিফা চেয়ে
সমস্যার স্থানে হালকা হাতে মালিশ করা
বিশেষ করে—
মাথা ও কপাল
বুক
পেট
পিঠ
হাঁটু ও পা
এগুলোতে নিয়মিত মালিশ করলে অনেকের ক্ষেত্রে আরাম অনুভূত হয় (আল্লাহর ইচ্ছায়)।
রুকইয়াহ চিকিৎসায় কিছু ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল রেচক (laxative) হিসেবে অল্প পরিমাণে পান করানো হয়। বিশেষত—
খাওয়ানো জাদুর সন্দেহ
পেট ভারী থাকা
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য
শরীরে অস্বাভাবিক অস্বস্তি
এগুলোর ক্ষেত্রে, আলেম বা অভিজ্ঞ রুকইয়াহকারীর পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।
সাধারণত—
অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েলের উপর দোয়া পড়ে
সকালে বা নির্দিষ্ট সময়ে পান করানো হয়
এতে অনেক সময় শরীর পরিষ্কার হতে সহায়তা করে।
সবচেয়ে উত্তম হলো—
এক্সট্রা ভার্জিন
কোল্ড প্রেসড অলিভ অয়েল
কারণ এতে—
কেমিক্যাল মিশ্রণ কম
প্রাকৃতিক গুণাবলি বেশি বজায় থাকে
তবে যদি এটি পাওয়া না যায়, তাহলে—
শরীরে ব্যবহারের উপযোগী
ভালো মানের অলিভ অয়েল
নিয়েও রুকইয়াহ করে ব্যবহার করা যায়। মূল বিষয় হলো তেলের মানের চেয়ে আকিদা ও দোয়ার শুদ্ধতা।
অলিভ অয়েল নিজে থেকে শিফা দেয় না
এতে কোনো অলৌকিক শক্তি আছে—এমন বিশ্বাস করা ভুল
শিফা দেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা
অলিভ অয়েল, কালোজিরা, মধু—সবই মাধ্যম। কুরআন, দোয়া ও তাওয়াক্কুল ছাড়া এগুলোর কোনো মূল্য নেই।
কবিরাজি তন্ত্র-মন্ত্র, তাবিজ, জিন হাজির করা বা শরিকি পদ্ধতির সাথে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা স্পষ্ট ভ্রান্তি।
অলিভ অয়েল কুরআন–সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত একটি বরকতময় উপাদান। রুকইয়াহর ক্ষেত্রে এটি একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়—খাওয়া ও মালিশ উভয়ভাবেই। তবে মনে রাখতে হবে—
কারণ গ্রহণ করা সুন্নাহ, কিন্তু ভরসা রাখা ফরজ—এবং তা একমাত্র আল্লাহর উপর।
আল্লাহ তাআলা চাইলে এই সামান্য মাধ্যমের মাধ্যমেই পূর্ণ শিফা দান করতে পারেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ আকিদা দান করুন এবং কুরআনের মাধ্যমে পূর্ণ আরোগ্য দান করুন। আমিন।
No review available.