
সোনা পাতা (কিছু অঞ্চলে পরিচিত নাম ভিন্ন হতে পারে) সাধারণত রুকইয়াহ চিকিৎসায় একটি সহায়ক সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নিজে কোনো চিকিৎসা নয়, বরং কুরআন ও দোয়ার সাথে ব্যবহৃত একটি মাধ্যম—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার কাছে শিফা প্রার্থনা করা হয়।
রুকইয়াহ চিকিৎসায় বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু সমস্যার পেছনে থাকে খাওয়ানো জাদু, অর্থাৎ এমন জিনিস খাওয়ানো হয়েছে যাতে জাদুর প্রভাব থাকে। এ ধরনের ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, পেটের সমস্যা, বমি ভাব, অরুচি, বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, মাথা ঝিমুনি, অথবা ইবাদতে অনীহা দেখা দিতে পারে। এসব অবস্থায়—আল্লাহর উপর ভরসা রেখে—সোনা পাতা সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সামান্য পরিমাণ সোনা পাতা (বা এর শুকনো গুঁড়া) নিয়ে—
গরম পানিতে ভিজিয়ে
হালকা চা তৈরি করা হয়
এরপর সেই পানির উপর—
সূরা ফাতিহা
আয়াতুল কুরসি
সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস
পড়ে আল্লাহর কাছে শিফা চেয়ে পান করা হয়।
চা বানানো সম্ভব না হলে—
গরম পানির সাথে অল্প পরিমাণ সোনা পাতার গুঁড়া মিশিয়ে
উপরোক্ত দোয়া-কালাম পড়ে
ধীরে ধীরে পান করা যায়
এই পদ্ধতিও অনেকের জন্য সহজ ও কার্যকর মনে করা হয়।
রুকইয়াহর ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো—
কুরআনের আয়াত
সহিহ দোয়া
এবং আল্লাহ তাআলার উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল
সোনা পাতা বা অন্য কোনো উপাদান নিজে থেকে কিছু করে না। বরং এগুলোকে ব্যবহার করা হয় এমনভাবে, যাতে রোগী মনোযোগ সহকারে দোয়া করে এবং আল্লাহর কাছে শিফা কামনা করে।
বিশেষত—
খাওয়ানো জাদু
অজানা কারণে দীর্ঘদিন পেটের অস্বস্তি
চিকিৎসা করেও ফল না পাওয়া কিছু উপসর্গ
এগুলোর ক্ষেত্রে, আলেম ও রুকইয়াহ অভিজ্ঞদের পরামর্শে সোনা পাতা ব্যবহারের কথা বলা হয়।
সোনা পাতা কখনোই জাদু কাটানোর নিশ্চয়তা নয়
এতে কোনো গায়েবি শক্তি আছে—এমন বিশ্বাস করা ভুল আকিদা
শিফা দেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা
কবিরাজি তন্ত্র-মন্ত্র, জিন ডাকানো, অজানা মন্ত্র লেখা, তাবিজ-কবচ বা শরিকি পদ্ধতির সাথে সোনা পাতা ব্যবহার করা হারাম ও ভ্রান্ত পথ।
সোনা পাতার পাশাপাশি অনেক সময়—
কালোজিরার তেল
অলিভ অয়েল
মধু
জমজমের পানি
ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। তবে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু একটাই—কুরআন ও দোয়া।
সোনা পাতা রুকইয়াহ চিকিৎসায় একটি সহায়ক উপাদান মাত্র। সঠিক আকিদা, নিয়মিত ইবাদত, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা—এই বিষয়গুলো ছাড়া কোনো উপাদানই উপকার দিতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা চাইলে সামান্য একটি মাধ্যম দিয়েও বড় শিফা দান করেন, আবার চাইলে কোনো মাধ্যম ছাড়াই শিফা দেন। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো—কারণ গ্রহণ করা, কিন্তু ভরসা রাখা একমাত্র আল্লাহর উপর।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ আকিদার উপর অটল রাখুন এবং কুরআনের মাধ্যমে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমিন।
No review available.